আপনার ‘হাসি’ টি খুব সুন্দর জানেন?

হাসি’ অপূর্ব সুন্দর একটি প্রশান্তকর চারিত্রিক গুণ। মানুষের মন ভালো করার জন্য একটু মুচকি  হাসিই যথেষ্ট। আমরা রোজ সকালে ঘুম থেকে হাসিমুখে উঠার এবং রাতে ঘুমানোর আগ অব্দি এই সঙ্গীকেই আপন করে নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করি।

সম্প্রতি এক গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা খুঁজে পেয়েছেন, ‘হাসিএন্ডোরফিন এবং সহানুভূতিশীল সক্রিয়করণ হরমোন নিঃসৃত করে, যা স্ট্রেস কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বুস্ট করায় সহযোগিতা করে। সুখী থাকার বা খুশি হওয়ার অন্যতম প্রধান উপকরণ হচ্ছে আপনার ‘হাস্যোজ্জ্বল’ মুখখানা।

হাসি সামাজিক বন্ধন তৈরি করে করে বিবাদ-দ্বন্দ্ব মেটাতে সহযোগিতা করে। হাসি পারস্পারিক যোগাযোগের মাঝে আনন্দ এবং স্বস্তিকর সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করে।

মনোবিজ্ঞানীরা তাই ‘হাসি-খুশি’- কে সঙ্গ করেই চলাফেরা করার উপদেশ দিয়ে থাকেন। হাসি মানুষদের একটি সাধারণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম হলেও তা মন এবং শরীরের মধ্যে সেতু বন্ধন রচনা করতে সহযোগিতা করে। এতে শারীরিক ও মানসিক অনেক প্রকারের উপকারই হয়ে থাকে। যেমন;

 

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা

আপনি যখন হাসতে পারবেন তখন তা আপনার শরীর ও মনকে ভাল রাখবে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যিনি প্রাণ খুলে হাসেন তার রক্তচাপ হ্রাস পায়। তাই হাসি এবং আনন্দ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্তত মানসিকভাবে প্রশান্তি খোঁজার জন্য। নিজের ওপর হাসির নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে জীবনের ছোট-বড় সবটা সুখই পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন আপনি।

 

ব্যথা বা দুশ্চিন্তা কমাতে-

হাসি হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সহায়তা করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের হৃদরোগ বা ব্যথার যন্ত্রণা রয়েছে তারা সাধারণত অন্যদের চাইতে হাসির চর্চা কম করেন। এছাড়া সাধারণ জীবনে তাদের ‘হিউমার বা রসবোধ’-টাও কম থাকে। ফলে তারা দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত থাকে। অপরদিকে শারীরিকভাবে সুস্থ একজন মানুষ মানসিকভাবেও শান্তিতে থাকে, যা তাকে সবসময়ই ‘হাসিমুখ’- এ রাখতে সাহায্য করে। তাই হাসিমুখ হৃদপিণ্ড সুস্থ্য এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।

 

সুন্দর যোগাযোগ রক্ষার্থে-

হাসি মানুষের সম্পর্ক ঘনিষ্ট করতে সাহায্য করে। ইতিবাচক অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে এবং একে অপরের মাঝে প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে। 

 

সুন্দর পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গিমা

হাসি হচ্ছে ইতিবাচক সংকেত। অন্যের উপর আপনার ভালো বা খারাপ দৃষ্টিভঙ্গি প্রাকাশে হাসিমুখ একটি উত্তম সংকেত। পৃথিবীতে নানারকম সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে মানুষ। আর এই সম্পর্কের ভেতরে কিছু সম্পর্ক খুশির পথে সহায়ক হয়ে কাজ করছে।

 

সম্মান এবং স্মার্টনেস-

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য একজন মানুষের দরকার পড়ে পোশাক, শিক্ষা, অলংকার, টাকা ইত্যাদি, আর এসবের জন্যে একজন মানুষকে জীবনে অসংখ্য প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। একজন মানুষ তার খুশি তখনই খুঁজে পায় যখন বেঁচে থাকার জন্যে নয় বরং নিজের ভেতরে থাকা ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্যে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয় সে।

আর হাসিমুখ একজন মানুষকে বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ স্মার্টনেস এবং নিজের প্রতি নিজের সম্মানবোধকে বাড়িয়ে তুলে।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, হাসি যেহেতু  স্বেচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাই স্বাস্থ্যের অনেকগুলি সুবিধার কথা চিন্তা করেও আমাদের সবসময় হাসিমুখে থাকা প্রয়োজন।

তাহলে আগামী সকালে আপনার হাসিমুখটা থাকছে তো?

 

Feature Photo Source: Zyzixun.net

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *