নভোচারীদের গল্প: কসমোনট বনাম এসট্রোনট

মহাশূন্য ভ্রমণ অনেকের কাছেই এক স্বপ্নের নাম। মানবজাতির ভেতর অল্প কয়েকজনই এটি করার সুযোগ পেয়েছেন এবং মহাশূন্য পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে নিয়ে গেছেন উন্নতির চরম শিখরে। মানুষের অদম্য কৌতূহলের খোরাক জুগিয়েই যাচ্ছেন তারা এবং মানুষ যে আসলে মহাজগত সম্পর্কে অল্পই জানে, তা প্রমাণ করে যাচ্ছেন।

সেই নভোচারীদের নিয়েই আজকের আর্টিকেলটি লেখা।

“এস্ট্রোনট” শব্দটির সাথে আমরা সকলেই কমবেশী পরিচিত, এবং ইংরেজিতে নভোচারীর অনুবাদ হিসেবেও আমরা এই শব্দই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু প্রশ্ন আসে যে “কসমোনট” তাহলে কারা?

এস্ট্রোনট আর কসমোনটদের মাঝে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, যদিও তাদের কাজ মূলত মহাকাশ ভ্রমণ করাই বলে বলা যায়।

আরো পড়ুনঃ আদিম মানুষের ভাবনায় যেমন ছিলো সৌরজগৎ

 

এস্ট্রোনট শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ এস্ট্রোস(তারা) + নটস(নাবিক) থেকে। অর্থাৎ তারা যেনো তারার নাবিক। এ পরিভাষাটি জনপ্রিয়তার কারনে আমেরিকার স্পেস প্রোগ্রামে ব্যবহার শুরু করা হয়। এখন এটি মূলত ব্যবহার করা হয় নাসা(NASA), জাক্সা(JAXA), ইএসএ(ESA),সিএসএ(CSA) এর নভোচারীদের জন্য।

অপরদিকে রাশিয়ার নভোচারীদেরকে সোভিয়েত যুগ থেকেই কসমোনট বলে সম্বোধন করা হয়। এই শব্দটি রাশিয়ান космонавт থেকে ইংরেজিতে এসেছে কসমোনট হয়ে। কসমোনট শব্দটি ভাঙলে পাওয়া যায় গ্রিক শব্দ কসমস(মহাশূন্য) + নটস(নাবিক)। এই শব্দটি রাশিয়ান নভোচারীদের বোঝাতে একটি দেশাত্মবোধক পরিভাষা যা নাসাও রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যবহার করে থাকে।

দ্বিতীয়ত, এস্ট্রোনট হতে ৪০ বছরের অধিক বয়সী হতে হবে, ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ডিগ্রি, ইউএস মিলিটারি টেস্ট পাইলট স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন এবং অন্তত ১৫০০ ঘন্টা উড্ডয়ন এর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি উচ্চতা হতে হবে ৪’১১” এর কম।

কিন্তু কসমোনট হতে হলে তাদের সাধারণত রাশিয়ার বাহিনীর সদস্য হতে হবে, এয়ার ফোর্স থেকে গ্র্যাজুয়েট করতে হবে, থাকতে হবে ৯০০ ঘন্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা এবং হতে হবে ৩০ বছরের কম বয়সী। উচ্চতা হতে হবে অন্তত ৫’৭”।

বাম থেকে একজন নাসার এস্ট্রোনত স্কট কেলী এবং রাশিয়ান কসমোনট মিখাইল কোরনিয়েনকো। Photo Credit: NASA

এস্ট্রোনট এবং কসমোনট উভয়কেই অত্যন্ত কঠিন মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষার ভেতর দিয়ে বাছাই করা হয়।

এস্ট্রোনট ও কসমোনটদের কাজের ধরণেরও পার্থক্য আছে। এস্ট্রোনটরা মহাশূন্যে জীবনযাপন ও মহাশূন্যের সাথে মানুষের সম্বন্ধের ব্যাপারে পারদর্শীতার পাশাপাশি স্পেসক্রাফট চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে পটু হন। অপরদিকে বায়ুমন্ডলের বাহিরে কাজের ক্ষেত্র হবার কারণে কসমোনটদের এসব বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জন জরুরী নয়।

পৃথিবীর রাজনীতিতে রাশিয়ান ও আমেরিকানদের সম্পর্ক দা-কুড়ালে হলেও মহাশূন্যে কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয়!

অবাক করা হলেও সত্য যে আমেরিকার এস্ট্রোনট ও রাশিয়ার কসমোনটেরা একত্রে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে স্বতস্ফুর্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ আচরণও বিরাজ করে! এটি অন্যতম প্রমাণ যে দিনশেষে আমাদের জাতীয় পরিচয় পেরিয়ে আমরা আসলে কাজের সময় মানুষই।

আর্টিকেলটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেননা।

 

Featured Image Credit: NASA

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *