মেডিকেলের আঙ্গিনা থেকে বলছি

সুপ্রিয় স্বপ্নচারীর দল,

আর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় ভর্তিযুদ্ধ – মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা৷ নিশ্চয়ই শুরু হয়ে গেছে বুকে দুরুদুরু কাঁপাকাঁপি? না, আর হার্টবিট বাড়াবো না, চল কিছু গল্প শোনাব, বুকে সাহস রাখার, জয়ী হবার৷

আমার গল্পটা দিয়ে শুরু করি৷ সময়টা ২০১২-২০১৩ সালের৷ গণিত আর রসায়নবিজ্ঞান ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতাম ওগুলো নিয়ে৷ এইচএসসি তে ৯৮ আর ৯৫ পেয়েছিলাম৷ খুব চাইতাম ইঞ্জিনিয়ার হব৷ কিন্ত বাবা মা চাইতেন ডাক্তার হব৷ তাই অনেকটা অভিমান আর কষ্ট নিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি৷ কিছুটা অবহেলাও ছিল৷ তাই মেডিকেল কলেজ তালিকায় একটু পিছিয়ে গেছি(৬ষ্ঠ)৷ তাই যারা পরিবারের চাপে এখানে আসছ, নিজের একটুখানি ভালবাসাও রেখ এ পেশার জন্য৷ বিশ্বাস কর, একটা মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করা মানে একটা পরিবার বেঁচে যাওয়া, অসুস্থ মানুষটি সুস্থ হাসিমুখ দেখার যে অনুভূতি,  সেটা অন্য কোনো পেশায় তুমি পাবে না৷

তো যা বলছিলাম৷ আমি আর্মি মেডিকেল আর এখানে ছাড়া অন্য কোথাও ফরম তুলিনি৷ আর্মি মেডিকেল কোর এর রিটেন এ টিকলেও আই এস এস বি তে আর অংশ নেওয়া হয়নি৷ এর এক সপ্তাহ পরেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ছিল৷ তাই আমার কাছে একটাই অপশন ছিল আর সাথে ভয়াবহ মানসিক চাপে ছিলাম!

তাই তোমাদের বলব, যাই হোক না কেন, “Just Stay Focused”, তোমাদের প্রস্তুতি যেমনি হোক নিজের সর্বোচ্চটুকু দেবার চেষ্টা করবে৷ এতটুকু মনে রাখবে, এখানে তোমাকে ফার্স্ট হতে হবে না, কেবল একটা সিট অধিকার করে নিতে হবে, এক ঘণ্টা সময় আর একটা সিট- যেটা আজকের তুমি যাকে অনেকেই পাত্তা দেয় না থেকে সেদিনের তুমি- যে আশেপাশের সবার রোল মডেল- এতটা পরিবর্তন আনতে পারে৷  নিজের ও পরিবারের এই পরিবর্তন আনতে পার কেবল-তুমি৷

শেষ মুহূর্তে কিছু পরামর্শ রইল তোমাদের প্রতি-

  • নতুন করে কিছু পড়তে যাবেনা৷ ভুলে যাও বা বেশি দরকারী তথ্যগুলো এসময় দেখে যাও৷ পরীক্ষার হলে একটা কথা মনে রাখবে, যা পারনা সেটা নিয়ে বেশিক্ষণ ভাববে না, আগে যেগুলো পার সেগুলো দাগাবে৷ জানা জিনিস সময়ের অভাবে দাগাতে না পারার জন্য বা দাগাতে ভুল হবার জন্য চান্স মিস যায়, দু একটা কঠিন প্রশ্ন না পারলে ঘাবড়ে যাবে না৷ কে কতটা পূরণ করছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামিও না, প্রশ্নে চোখ বুলালেই বুঝতে পারবে প্রশ্ন কঠিন নাকি সহজ হয়েছে, সেভাবে পরের সিদ্ধান্তে যাবে৷ একটা কথা মনে রাখবে, ১০০ টা পূরণ করা ওভার কনফিডেণ্ট পাবলিক আগেও ছিল এখনও আছে, এদের কথায় কান দিবে না, নেগেটিভ মার্কিং এর কথা মাথায় রাখবে৷
  • পরীক্ষার হল এ দেখাদেখির চেষ্টা করবে না৷ পরিদর্শকগণ কোনো ইঙ্গিত দেওয়া ছাড়াই বহিষ্কৃত করে দিতে পারেন৷
  • সম্প্রতি নোবেল পুরষ্কার এর চিকিৎসায় পুরষ্কারপ্রাপ্ত দুজন এবং প্ৰথম নারী মেজর জেনারেল ডা: সুসানে গীতা ম্যাম সম্পর্কে অবশ্যই জানবে৷
  • এ কয়েকটা দিন ফার্স্ট ফুড, কোমল পানীয় থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকবে৷ প্রচুর পানি পান করবে৷ অহেতুক ফেসবুকিং- এ সময় অপচয় করবে না৷ বেশি বেশি স্রষ্টাকে স্মরণ কর৷

মনে রেখ, তুমি এ কয়টা মাস অনেক সাধনা করেছ, তোমার স্বপ্নটা সত্যি করার জন্য এখন শুধু প্রয়োজন একটু মনোযোগ আর বুদ্ধিমত্তার কৌশল প্রয়োগ৷ অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া ও শুভকামনা রইল ছোট ছোট কঠোর পরিশ্রমী যোদ্ধাদের জন্য৷ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে একটা শ্বেতশুভ্র এপ্রোণ, স্টেথোস্কোপ আর মহান এক পেশা৷ দেখা হবে বিজয়ে৷

 

নিগার সুলতানা লিয়া

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ব্যাচ ৫৬

সেশন: ২০১৪-১৫

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *