দ্যা নাইট অফ দ্যা লং নাইভস: হিটলারের স্বৈরাচার শক্তিশালী হয়ে ওঠা

হিটলারের নৃশংসতার খবর সবারই জানা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার আগ্রাসী ও দখলদার মনোভাবের কারণে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তার দেশ জার্মানিতে ইহুদীরা হয়েছে নির্যাতিত, গণহত্যার শিকার।
কিন্তু আসুন, আরেকটু আগের ঘটনার দিকে তাকাই। কীভাবে হিটলার স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে তার মসনদ পাকাপোক্ত করলো তৎকালীন জার্মানীতে? কীভাবে সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের হটাতে সক্ষম হয়েছিলো?
সেই ক্ষমতা আয়ত্বে আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিলো ‘দ্যা নাইট অফ দ্যা লং নাইভস’।
সেই ঘটনার ব্যাপারে জানতে চলুন চলে যাই ১৯৩৪ সালে।
ততদিনে হিটলারের নাৎসি পার্টি হয়ে গেছে জার্মানির একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি এবং পুরো দেশ চলে গেছে তাদের জবরদখলে, যদিও তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিলো। হিটলারের নাৎসি পার্টির অনুগত অর্ধসামরিক পেটোয়া বাহিনী, এসএ(SA) ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে সমাজে। জার্মানী সামরিক সক্ষমতা অর্জন করছে দ্রুতগতিতে।
এমন সময় হিটলার বুঝতে পারেন যে জার্মানির নাৎসি পার্টিকে সম্পূর্ণভাবে তার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে, তার একচ্ছত্র স্বৈরাচার কায়েম করতে হলে তাকে আরো শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। কারণ এসএ-এর নেতা আর্নেস্ট রোঁম হয়ে উঠছিলেন অতি প্রভাবশালী এবং হিটলারের জন্য হুমকি। তেমনি নাৎসি পার্টির আরো অনেকে ক্ষমতালোভী হয়ে উঠছিলেন। তাই হিটলার সিদ্ধান্ত নেন শক্তহাতে চিরকালের জন্য এসব দমন করার।
নাৎসি পার্টি আগে থেকেই তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমাতে হত্যা করতেও পিছপা হতোনা। হিটলার তার নিজের পার্টির লোকদেরও হত্যা করতে পিছপা হলেন না।
১৯৩৪ সালের ২৯শে জুন থেকে ২য় জুলাই চলে এ পাশবিক হত্যাকান্ড। ২৯শে জুন রাত ইতিহাসে স্থান পায় ‘নাইট অফ দ্যা লং নাইভস’ হিসেবে।

আর্নেস্ট রোঁম, গ্রেগর স্ট্রসার, কার্ট ভন শ্লাইকার সহ অন্তত ৮৫ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ নাৎসি পার্টি সংশ্লিষ্টদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাদের বিভিন্নভাবে হত্যা করে হিটলার হয়ে ওঠেন জার্মানির সর্বেসর্বা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিত্তি রচনা হয়ে যায় এবং জার্মানি চলে যায় এক ঐতিহাসিক স্বৈরশাসকের হাতে।

 

Feature Photo Source:  Eyeopening.info

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *