কিডন্যাপিং অব চার্লি রোজঃ আমেরিকার মাটিতে অন্যতম অমীমাংসীত এক কিডন্যাপিং কেস

১৮৭৪ সালের সালের কথা। মার্কিন মুল্লুকে মুক্তিপণের জন্য করা কিডন্যাপিং কেসগুলোর মধ্যে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে অত্যাধিক পরিচিত পাওয়া কিডন্যাপিং কেসগুলোর একটি সংঘটিত হয়ে সেই সময়ে। যার সমাধান কখনো সম্ভব হয়নি।

জুলাইয়ের এক তারিখ। ৪ বছর বয়সী চার্লি রোজ তার ভাই ওয়াল্টার এর সাথে ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের বাড়ির উঠানে খেলা করছিলো। হঠাৎ এই সময়য় বগীতে করে দুজন লোক আসে আর তাদেরকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য আতশবাজি কিনে দেওয়ার লোভ দেখায়।

শিশু বয়সই রোজ আর ওয়াল্টার দুজনই আতশবাজির কথা শুনে ঐ দুজনের বগীতে উঠে যায়। ঐ দুজন অচেনা রাস্তা দিয়ে যেতে থাকে যে রাস্তা দিয়ে রোজ কিংবা ওয়াল্টারের কেউই কোনদিনই যায়নি এবং একটি দোকানের সামনে গিয়ে বগী থামায় আর ওয়াল্টারকে ২৫ সেন্ট দিয়ে বলে যে দোকান থেকে আতশবাজি কিনে আনতে। আর এই সময় ওয়াল্টার দোকানে ঢুকলে রোজকে নিয়ে ঐ দুজন আগন্তুক লাপাত্তা হয়ে যায়।

এসব কিডন্যাপিং এর কিছুই তখনও তাদের বাবা জানেনা। এক প্রতিবেশী যখন রোজ আর ওয়াল্টারের বাবাকে জানায় যে সে তার দুই সন্তানকে দুইজন অপরিচিত মানুষের সাথে বগীতে করে যেতে দেখেছে তখন থেকেই দুশ্চিন্তার শুরু হয়। সে তার স্ত্রীকে এই বিষয়ে কিছুই জানায় না। সে তখন আটলান্টিক শহরে বসবাস করছিলো। সে নিউজপেপারে মিসিং নিউজ দেখে জানতে পারে যে তার দুই সন্তান কিডন্যাপ হয়েছে।

কিডন্যাপ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই  ফিরে আসে ওয়াল্টার। দুশ্চিন্তার ঘনঘটার মাঝে কিছুটা স্বস্তি পায় বাবা ক্রিশ্চিয়ান। সে তার বাবাকে জানায় যে ঐ দুজন লোককে সে কখনোই আগে দেখেনি আর এখন চার্লি রোজ কোথায় আছে সেটাও সে জানেনা। বয়সে একটু বড় হলেও ওয়াল্টারও যে একজন কিশোর।

এরপরই ক্রিশ্চিয়ান একটা চিরকুট পায়। কিন্তু চিরকুটের লেখার বানান ছিলো খুবই জঘন্য। ছিলো প্রচুর গ্রামার মিসটেক আর সাথে বানানও।

চিরকুটের লেখাগুলো।

চিরকুটে তাকে দুশ্চিন্তা না করতে বলা হয় এবং লেখা থাকে যে চার্লি রোজ ভালোই আছে। তবে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে পৃথিবীর কোন শক্তিই নাকি রোজকে উদ্ধার করতে পারবে না যতক্ষণ না তারা চায়। পুলিশের সাহায্যও নিতে কড়াভাবে নিষেধ করা হয়। যদি তাদের কে মুক্তিপণের টাকা দেওয়া হয় তাহলে সে তার সন্তানকে সুস্থভাবেই পেয়ে যাবে।

কড়াভাষায় হুমকি দেওয়ার পরেও ক্রিশ্চিয়ান পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের সাহায্য প্রার্থনা করে। এর কিছুদিন পরেই আবার একটি চিঠি পায় ক্রিশ্চিয়ান। এই চিঠিও ছিলো অসংখ্য বানান ভূলে ভরা। তবে এবারের চিঠিতে সরাসরি মুক্তিপণ হিসেবে ২০,০০০ ডলার দাবি করা হয়।

কিন্তু এরপরে পুলিশ ও রোজের বাবা বহু চেষ্টা করেও আর কিডন্যাপারদের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারেনি এবং মুক্তিপণের ডিলটাও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ঠিক পরের বছর ১৮৭৫ সালের ১৩ই ডিসেম্বর সন্দেহের বশবর্তী হয়ে দুজন যুবককে ধরার চেষ্টা করে পুলিশ কিন্ত তারা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে করে স্পটেই সন্দেহভাজনদের একজন মারা যায় এবং অন্যজন গুরুতর আহত হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেও মারা যায়। তবে মারা যাওয়ার আগে সে স্বীকার করে যে তারা চার্লি রোজকে কিডন্যাপ করেছিলো এবং কিন্তু সে জানেনা চার্লি রোজ কোথায় আছে।

এরপর পুলিশ সেই যুবকের কথার সূত্র ধরে বহু খোঁজার চেষ্টা করলেও চার্লি রোজকে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি। একসময় পুলিশ হাল ছেড়ে দেয়। বাবা ক্রিশ্চিয়ান তার জীবনের পরবর্তী ২৩টা  বছর শুধু খুঁজেই গিয়েছে সন্তানকে কিন্তু কখনোই তাকে নিজের ঘরে আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

এরপর অনেকেই ক্রিশ্চিয়ানের সম্পদ পাওয়ার জন্য নিজেকে চার্লি রোজ দাবি করেছিলো কিন্তু কেউ নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি।

এভাবেই চার্লি রোজের এই কিডন্যাপিং কেসটি অমীমাংসিত থেকে যায়।

হিস্টোরিক মিস্টেরিস অবলম্বনে।

 

Feature Photo Source: Historicmysteries.com

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *