কার্দেশভ স্কেল: মহাজাগতিক সভ্যতার মাপকাঠি!

১৯৬৪ সালে রুশ অ্যাস্ট্রো-ফিজিসিস্ট নিকোলাই কার্দেশভ সভ্যতার একটি মাপকাঠির কথা বলেন। এটি এমন এক মাপকাঠি যা দিয়ে একটি সভ্যতাকে পরিমাপ করা যায়। ঐ সময়ে তিনি তিন প্রকার সভ্যতার কথা বলে গিয়েছিলেন পরে নব্য জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা আরো বেশ কিছু ধরনের সভ্যতা যোগ করেছেন সেই মাপকাঠিতে।

আজব ব্যাপার হলো বিশিষ্ট কসমিক হরর লেখক এইচ. পি. লাভক্র্যাফট, কার্দেশভের বহু আগেই নিজের ‘দ্য শ্যাডো আউট অফ টাইম’ নামক নভেলাতে ইথিয়ান নামে এক জাতির কথা বলেছিলেন যারা সময়ের বেড়াজালকে ফাঁকি দিয়েও টিকে থাকতে পারে। অনেকটা এই ব্যাপারের সাথে মিলে যায় কার্দেশভ স্কেলের শেষ পর্যায়গুলো।

অনেকেই মনে করে যে কার্দেশভ, লাভক্র্যাফটের দ্বারা বেশ প্রভাবিত ছিলেন। যাইহোক, এবার আসল কথা শুরু করি। আমরা বলতে যাচ্ছি সভ্যতার শ্রেণীবিভাগগুলোর কথা।

 টাইপ I  সভ্যতা

Photo Source: YouTube.com

এই ধরনের সভ্যতা হলো একটি গ্রহ ভিত্তিক সভ্যতা। এখানে ওই গ্রহে থাকা সকল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শক্তিকে ব্যবহার করতে পারে সেখানকার প্রাণীরা। শুধু তাই নয়, ইচ্ছে মতো গ্রহের বিভিন্ন জায়গায় ভৌগোলিক পরিবর্তন করতে পারে, একটি বিশেষ স্থানকে অপর একটি জায়গাতে সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা অর্জন করে আর সেই গ্রহের অভ্যন্তরীন পরিবর্তনও ঘটাতে পারে। এছাড়া সেই গ্রহের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রন ক্ষমতাও সেখানকার প্রাণীদের হাতে এসে যায়। কখন রোদ হবে, কখন মেঘ হবে, কখন বৃষ্টি হবে সেটা গ্রহের প্রাণীরাই নির্ধারণ করে দেয়।

পৃথিবীতে আমাদের মানবসভ্যতা সেই স্কেলে ০.৭৩ টাইপ অবস্থাতে রয়েছে। ধারণা করা হয় আগামী ১০০ বছরের মধ্যে আমরা টাইপ I সভ্যতাতে পরিণত হবো।

 

টাইপ II সভ্যতা

Photo Source: Gaia.com

এই ধরণের সভ্যতা হলো একটি সোলার সিস্টেম ভিত্তিক সভ্যতা। ওই সোলার সিস্টেমের সকল শক্তি ব্যবহারে সক্ষম হবে সেখানকার প্রাণীরা। ওই সিস্টেমের সকল ঘটনা প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা অর্জন করে প্রাণীরা। এই পর্যায়ে এসে সোলার সিস্টেমের যেকোন গ্রহের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে সেখানকার প্রাণীরা। শুধু তাই নয়, যেকোন নতুন গ্রহও সৃষ্টি করতে পারে তারা এবং ইচ্ছেমতো একগ্রহ থেকে আরেক গ্রহে চলেও যেতে পারে। কোন গ্রহের পরিবেশ পরিবর্তনও করতে পারে তারা।

মূল কথা, একটা সোলার সিস্টেমের ওপর পুরোপুরি কর্তৃত্ব অর্জন করে টাইপ II সভ্যতার প্রাণীরা।

 টাইপ III সভ্যতা

Photo Source: Sci-news.com

এটি হলো ছায়াপথ ভিত্তিক সভ্যতা। এই সভ্যতার প্রাণীরা একটা পুরো ছায়াপথ নিয়ন্ত্রন করতে পারে। এই ছায়াপথের যেকোন সোলার সিস্টেমের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে এবং ইচ্ছেমতো সোলার সিস্টেম সৃষ্টি করতে পারে! এক গ্রহকে এক সোলার সিস্টেম থেকে অন্য সোলার সিস্টেমে নিয়ে যেতে পারে। পুরো ছায়াপথের সবকিছু তাদের নখদর্পনে থাকে। ইচ্ছেমতো ছায়াপথের এখান থেকে সেখানে যেতে পারে। পুরো সভ্যতার সকল নক্ষত্রের শক্তি তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারে।

এভাবেও বলা যায় যে, পুরো ছায়াপথ পরিণত হয় একটা খেলার মাঠে আর প্রাণীরা খেলতে থাকে ইচ্ছেমতো!

টাইপ IV সভ্যতা

এটি হলো মহাবিশ্বভিত্তিক সভ্যতা। এই সভ্যতার প্রাণীরা একটি মহাবিশ্বের সকল ছায়াপথকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে! পুরো মহাবিশ্বটাই তাদের পদানত হয়ে যায়!

 টাইপ v সভ্যতা

এটি মূলত মাল্টিভার্স ভিত্তিক সভ্যতা। অসংখ্য সমান্তরাল মহাবিশ্ব নিয়ে এই সভ্যতা গঠিত। এই সভ্যতার প্রাণীরা সবগুলো মহাবিশ্বকেই নিয়ন্ত্রন করতে পারে।

টাইপ VI সভ্যতা

এটি হলো সভ্যতার উচ্চতম স্তর। এই সভ্যতার প্রাণীরা সময়কে হার মানিয়ে ফেলে, তারা অমর হয়ে যায়। সময়কে ইচ্ছামতো আগে এবং পিছে নিয়ে যেতে পারে তারা। শুধু তাই নয়, মহাবিশ্ব, সমান্তরাল মহাবিশ্ব এবং মাল্টিভার্স সৃষ্টি এবং বিনাশ করার ক্ষমতা থাকে তাদের। এই পর্যায়কে এজন্যই বলা হয়, “GOD Phase” ।

লাভক্র্যাফট যে ইথিয়ান প্রজাতির কথা বলেছিলেন তারা এই টাইপ VI সভ্যতার কাছাকাছি কিছু একটা ছিলো।

আমাদের মধ্যে অনেকেই বলে থাকেন যে সায়েন্স ফিকশন আসলে কিছু উর্বর মানুষের কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয় তবে ব্যাপারটা যে এমন নয় তা কিন্তু স্কেলই প্রমাণ করে। মাঝে মাঝে বিজ্ঞানীরাও সায়েন্স ফিকশন থেকে নতুন ধারণা পেয়ে যান!

Feature Photo Source: Bibliotecapleyades.net

Leave a comment

লুৎফুল কায়সার

মাঝে মধ্যে লেখি আরকি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *