আদিম মানুষের ভাবনায় যেমন ছিলো সৌরজগৎ

আজ আমাদের কাছে শক্তিশালী টেলিস্কোপ আছে। দূ্র দূ্রান্তের বহু নক্ষত্র নিয়ে আমরা গবেষণা করতে পারি। কিন্তু আদিম মানুষের সেই সুযগ ছিলো না। খালিচোখে যতদূ্র দেখা যেতো ঠিক ততদূ্র নিয়েই চিন্তা-ভাবনা করতো আদিম মানুষেরা।

তাদের ভাবনাতে শুধু সৌরজগৎই ছিলো। তাদের কাছে মহাবিশ্ব মানে ঐ সৌ্রজগৎই। মহাবিশ্বের এই বিশালতা সম্বন্ধে বোধহয় তারা কখনো কল্পনাই করেনি। তবে এই সৌ্রজগৎ কেমন তা নিয়ে তাদের মস্তিষ্কে উদ্ভব হয়েছিল অদ্ভুত সব চিন্তা ভাবনা।

 

 

Source: schoolphysics.co.uk

 

 

 

যখন মানুষের কাছে আকাশের ওপারে আকাশ দেখার শক্তি ছিলোনা তখন মানুষের মাঝে জন্ম নিতো এরকম চিন্তাভাবনা। এই যেমন ব্যাবিলনীয়রা ভাবতো, এই সৌ্রজগৎ একটি শামুকের মত যা কঠিন মোড়কে ঢাকা। এর উপরে ও নিচে রয়েছে শুধু পানি আর পানি। আর এই গোল শামুকের কেন্দ্রস্থলেই রয়েছে আমাদের পৃথিবী, যেন একটি ফাঁপা পর্বতের মত। পৃথিবী পানিতে ভাসছে এবং পৃথিবীর নিচের পানি ফোয়ারা ও ঝর্ণা হয়ে উঠে আসে। পৃথিবীর উপরের কঠিন গোলোকটির আছে দুটি দরজা –একটি পূ্র্ব দিকে আরেকটি পশ্চিম দিকে। আর এই পূ্র্ব দিকের দরজা দিয়ে সূর্য,চন্দ্র,নক্ষত্ররা ঢোকে এবং পশ্চীম দিকের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়।

 

 

আদিম মানষ ভাবতো পৃথিবী সৌ্রজগতের কেন্দ্রে।
Source: mstworkbooks.co.za

 

প্রাচীন মিশরীয়দের ভাবনা ছিল আরেকরকম। তারা ভাবতো, এই বিশ্ব একটি চৌকানো বাক্সের মতো। পৃথিবী হচ্ছে ঐ বাক্সের মেঝে আর আকাশ হচ্ছে  পৃথিবীর চারকোণে চারটি পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গরু বা দুটি কনুই এবং হাটু রেখে উবু হয়ে থাকা একটি নারী অথবা লোহার পাতের একটি গোল ঢাকনা। বাক্সটির ভেতরে দিকে দেওয়ালে রয়েছে এক ধরণের থাক দেওয়া গ্যালারি। এই গ্যালারি দিয়ে বয়ে যাচ্ছে একটি নদী। আর এই নদীর উপর দিয়েই পানসি ভাসিয়ে যায় সূর্যদেবতা ও চন্দ্র দেবতা। তাদের আসা যাওয়ার জন্য আছে ভিন্ন ভিন্ন দরজা। গ্রহগু্লো চলছে নৌকা ভাসিয়ে এক একটি খালের উপর দিয়ে। স্থির নক্ষত্রগু্লো হচ্ছে বাতি ,যেগু্লো এক একজন দেবতার হাতে ধরা।

আদিম যুগে ভারতবর্ষের মানুষেরাও এই সৌ্রজগৎ নিয়ে ভিন্নরকম চিন্তা ভাবনা করতো। ভারতবর্ষের হিন্দু্রা ভাবতো, বাসু্কি নামের  একটি সাপ তার ফণার উপর পৃথিবীকে ধরে আছে। আর চন্দ্র গ্রহণ হয় রাহু নামের এক রাক্ষসের গ্রাসে। চন্দ্রের কলা হচ্ছে প্রজাপতি দক্ষের অভিশাপে চন্দ্রের ক্ষয়রোগগ্রস্ত হওয়ার একটি ফল।

চীনারাও কম ছিলো না। তার মনে করতো ,হিংস্র  একটি ড্রাগন সূর্যকে গ্রাস করে বলেই সূর্য গ্রহণ ঘটে। আর যখনই সূর্য গ্রহণ ঘটতো তখনই চীনারা সমস্বরে চিৎকার জুড়ে দিতো।কেননা তাদের বিশ্বাস ছিলো তাদের এই চিৎকারে হিংস্র ড্রাগনটি পালিয়ে যাবে।

 

 

আবার কে কে ভাবতো সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে আগু্ন।
Source: occhidellamente.altervista.org

 

 

 

 

মায়া সভ্যতার অস্তিত্ব পৃথিবী থেকে পু্রোপু্রি হারিয়ে গেছে। কিন্তু দার্শনিকরা জানতে পেরেছে তাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে। মায়ানদের বিশ্বাস ছিলো যে,পৃথিবিই সব মহাজাগতিক বস্তু্র কেন্দ্রে। আর চন্দ্র,সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহগু্লো হচ্ছে একেকজন দেবতা। তারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই আকাশ এবং আকাশের নক্ষত্রদের নিয়ে ভাবতো। কেননা তাদের বিশ্বাস ছিলো খুবই গভীর। এমনকি যুদ্ধ করার সময়েও তারা আকাশের গ্রহ ,চন্দ্র, সূর্য  এবং অন্যান্য নক্ষত্র সমূহের   মু্ভমেন্ট খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতো। তাদের সূর্য দেবতার নাম ছিলো ‘কিনিচ আহাউ’। চন্দ্রের গু্রুত্বও তাদের কাছে সূর্যের মত।

এরকমই ছিল প্রাচীন মানুষদের ধ্যানধারণা। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে প্রাচীনকালের সেই মানুষরা তাই বিশ্বাস করতো যা তারা খালি চোখে দেখতে পারতো। তাদের কাছে ছিলোনা কোন টেলিস্কোপ।

 

Leave a comment

One thought on “আদিম মানুষের ভাবনায় যেমন ছিলো সৌরজগৎ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *