প্রফেট মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় ১০টি খাবার এবং তার উপকারিতা

আজকের এই লেখাটি সাজানো হয়েছে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় ১২টি খাবার আর সেসব খাবারের উপকারিতা নিয়ে। আর বেশি দেড়ি না করে সোজা আসল কথায় চলে যাই।

১। দুধ

বলা হয়ে থাকে যে আঙুল দিয়ে যেভাবে কপালের ঘাম মুছে নেওয়া হয় অনেকোটা সেভাবেই নাকি দুধ হৃদয়ের তাপ মুছে দেয়। দুধ একদিকে যেমন পিঠ কে শক্তিশালী করে আবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একইসাথে বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সকল পানীয় এর মধ্যে দুধ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন।

শরীরের স্ট্যামিনা বৃদ্ধিতে ও নির্জীবিতা দূর করতে দুধ অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও প্রসাবের মাধ্যমে শরিরের ভিতরকার বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতেও দুধ খুব উপকারী।

২। মধু

ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটুখানি গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা যে কত উপকারি তা প্রায় সবারই জানা। মধু কে বলা হয় মেডিসিনের মেডিসিন। পাকস্থলিকে শক্তিশালী করতেও মধু অত্যন্ত কার্যকরী।

মধু।

খাওয়ার পাশাপাশি মধু ব্যবহার করা হয় চুলের কন্ডিশনার হিসেবে, মাংস সংরক্ষণে, আবার কখনো চোখের মলম হিসেবে।                                                                                                                                           ইবনে মাজাহ শরীফে এসেছে যে, “ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের দুটি ঔষধ রয়েছে; একটি মধু এবং অন্যটি আল কুরআন”।

৩। মাশরুম

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, মাশরুম হলো মান্নার অন্তর্ভুক্ত যা বনি ঈসরাইলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলো এবং এর পানি চোখের জন্য প্রতিষেধক।(ইবনে মাজাহ,মুসলিম শরীফ)

মূলত তিন প্রকার মাশরুম বিদ্যমান।

মাশরুম।

(i ) ব্ল্যাক মাশরুম – এটি মূলত বিষাক্ত।

(ii) অফ-হোয়াইট মাশরুম – এধরণের মাশরুমের কথাও বলা হয়নি।

(iii) হোয়াইট মাশরুম – এই ধরণের মাশরুম চোখের প্রতিষেধক।

 

৪। আঙ্গুর

আঙ্গুর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর খুব পছন্দের ছিলো।

এটি রক্তের বিশুদ্ধকরণে অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। পাশাপাশি এটি শরীরে শক্তি যোগাতেও সাহায্য করে এবং কিডনীর জন্যেও উপকারী।

৫।খেজুর

হযরত সাদ রা. থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে মদীনার ৭ টি খেজুর খাবে, ঐ দিন তাকে কোন বিষ বা যাদু-টোনা ক্ষতি করতে পারবে না”।

মুসলিম শরীফের আরেকটি হাদীসে এসেছে যে  হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)  বলতেন, “যে ঘরে খেজুর আছে সে পরিবার কখনো অভুক্ত নয়”।

৬। ডুমুর ফল

ডুমুর হচ্ছে জান্নাতের ফল।

ডুমুর ফল।

ডুমুর ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশক্তি, ভিটামিন এ, বি, শর্করা, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রন। ওজন কমাতে,ক্যান্সার প্রতিরোধে, হাড় বৃদ্ধিতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, পেটের সমস্যা দূ্রীকরণে সহ আরো নানান সমস্যার সমাধানের জন্য ডুমুর বেশ উপকারী একটি ফল।

৭। বার্লি

জ্বরের সময় বার্লির স্যুপ অত্যন্ত উপকারী। সাহাবারা বিভিন্ন খাবার তৈরীতে বার্লি বা যবের ব্যবহার করতেন।

৮। ডালিম ফল

নবীজী (সাঃ) বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে। এই ফলের উপকারিতাও অনেক।

ডালিম রক্ত পরিশুদ্ধ করে, শরীরকে সজীব করে ও পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও গলা ও ত্বক পরিষ্কার কর নানান রকমভাবে এটি আমাদের জন্য উপকার করে।

৯। পানি

প্রিয়নবী (সা.) পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।

১০। তরমুজ

প্রিয়নবী (সা.) তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। নিজেও বেশ পরিমাণে তরমুজ খেতেন। সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। যেসব গর্ভবর্তী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *