ভারতবর্ষে কাগজের ইতিহাস

আজকাল ভারতবর্ষে যে হারে কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেখে কেইবা ভাববে এক যুগে এখানে কাগজের প্রচলনই ছিল না। ভারতবর্ষের বেশিরভাগ এলাকায় কাগজের পরিবর্তে অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করা হতো। লেখালেখির প্রয়োজন হলে ভুজ পাথর, খেজুরের পাতা, তাল গাছের পাতা, রেশমী কাপড়, তামা ইত্যাদীর উপর লেখা হতো। পাথরের উপর লেখা সম্রাট অশোকের একটি ফরমান এখনো টিকে আছে। মুম্বাই মিউজিয়ামে আছে তামার উপর লেখা একটি পত্র।

এ বিষয়ে ঐতিহাসিকরাও উল্লেখ করেছেন। ইবনে নাদীম লিখেছেন, আরবরা সাধারনত উটের হাড় ও খেজুরের পাতায় লেখালেখি করে। ভারতবর্ষের লোকেরা তামা, পাথর ও সাদা রেশম কাপড়ে লেখালেখি করে। (১)

বেরুনী লিখেছেন, দক্ষিন ভারতে খেজুর ও নারিকেল গাছের মতো উচু এক প্রকারের গাছ দেখা যায়। এই গাছের ফল খাওয়া যায়। এই গাছের পাতা প্রায় এক হাত লম্বা । স্থানীয়রা এই গাছকে তাল গাছ বলে । এই গাছের পাতার উপর লেখা হয়। মধ্য ভারত ও উত্তর ভারতের এলাকাগুলিতে তুজ গাছের ছালের উপর লেখা হয়। (২)

   তালগাছের পাতা দিয় তৈরী বই।
   Photo Source: Incrediblediary.com

সজন রায় উড়িষ্যা সম্পর্কে লিখেছেন, তালের পাতায় লোহার কলম দিয়ে লেখা হতো। কালি খুব কম ব্যবহার করা হতো।

কাশ্মীর সম্পর্কে লিখেছেন, সাধারণত ভুজ পাথরের উপর লেখা হতো। কাশ্মীরে এটি প্রচুর মিলতো। (৩)

এইসব উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায় ভাতবর্ষে কাগজের প্রচলন ছিল না। পাতার উপরই বেশিরভাগ লেখা হত। বেরুনী বলেছেন পাতার উপর অনেক পুথি লেখা হতো। এসব পুথির কিছুকিছু আজো ভারতবর্ষে টিকে আছে। একবার আহমেদাবাদে আমি জৈন ধর্মের একটি পুথি দেখি। এটি লেখা হয়েছে ভুজ পাথরের উপর। মিয়ানমার সফরকালে (৪) রেংগুনের বৌদ্ধ মন্দিরে একটি প্রাচীন পুথি দেখি যা লেখা হয়েছে তাল পাতার উপর।

কাগজের প্রথম প্রবর্তন করেছিল চীনারা। তারা এক প্রকার ঘাস থেকে কাগজ তৈরী করতো। ইবনে নাদীম লিখেছেন, চীনের লোকেরা চীনা কাগজে লেখে। এটি এক প্রকার ঘাস থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই কাগজ তাদের আয়ের অন্যতম মাধ্যম। (৫)

শুরুর দিকে অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতো না। খ্রিস্টিয় অষ্টম শতাব্দীতে মুসলমানরা এর ব্যবহার শিখে এবং দ্রুতই বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। বেরুনী লিখেছেন, মুসলমানরা সমরকন্দ বিজয়কালে যাদেরকে বন্দী করেছিল তাদের কয়েকজন ছিল কাগজ প্রস্তুতকারক। মুসলমানরা তাদের কাছ থেকে কাগজ প্রস্তুতপ্রনালী শিখে নেয় এবং এই শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করে। বেরুনী আরো লিখেন, ভারতবর্ষে গ্রীকদের মতো চামড়ায় লেখার প্রচলন নেই। (৬)

ভারতবর্ষ বিজয়ের আগেই মুসলমানদের মধ্যে কাগজের প্রচলন শুরু হয় এবং তারা বিভিন্ন অঞ্চলে কাগজের কারখানা স্থাপন করে। সম্ভবত খোরসান ও সমরকন্দে সর্বপ্রথম কাগজের কারখানা স্থাপন করা হয়। সেখানে এ জাতীয় ঘাস প্রচুর পাওয়া যেত। ১৩৪ হিজরীতে (৭৫১ খ্রিস্টাব্দ) আরবরা আরো এগিয়ে যায়, তারা তুলা থেকে কাগজ প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়(৭)। হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতেই সরকারীভাবে এই কাগজের ব্যবহার শুরু হয় (৮)। ভারতবর্ষে মুসলমানদের আগমন হিজরী প্রথম শতাব্দীর শুরুর দিকেই শুরু হয়। মুহাম্মদ বিন কাসিম এই শতাব্দীর শেষদিকে (৯৩ হিজরী) সিন্ধু জয় করেন। এই অভিযানে হাজ্জাজের নির্দেশ ছিল প্রতি তিনদিন পরপর তাকে পত্র লিখে সব জানাতে হবে। বালাজুরি লিখেছেন, তিনদিন পর পর হাজ্জাজের সাথে মুহাম্মদ বিন কাসিমের পত্র যোগাযোগ হতো। অভিযানের শুরুতেই হাজ্জাজ এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন (৯)।

সিনধু বিজয়ী কিশোর সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম।
    Photo Source: Historiarex.com

এই পত্র কিসে লেখা হতো তা স্পষ্ট নয়। তবে কলকশান্দি লিখেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সাদা পাথর ও খেজুরের ডালে লেখা হতো। পরবর্তীকালে সাহাবীরা পাতলা চামড়ায় লিখতেন। আব্বাসী যুগের শুরু পর্যন্ত এসবেই লেখা হতো। হারুনুর রশিদই প্রথম খলিফা যিনি আদেশ দেন, সরকারী সকল ফরমান কাগজে লিখতে হবে। সেদিন থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাগজের ব্যাপক প্রচলন হয় (১০)। সম্ভবত সিন্ধু বিজয়ের সময় পর্যন্ত ভারতবর্ষে কাগজ এসে পৌছেনি। আব্বাসী আমলেই আরবরা সিন্ধু ও আশপাশের এলাকায় কাগজ নিয়ে আসে। হিজরী পঞ্চম শতাব্দির শুরু পর্যন্ত সিন্ধুতে আরবদের শাসন টিকে ছিল। সম্ভবত, এসময় তারা খোরাসান ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা কাগজই ব্যবহার করতো।

হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি ভারতবর্ষে কাগজ নির্মান শুরু হয়। হামেদ গার্নাতি লিখেছেন, বলখের কাগজ, ইরাক , খোরাসান ও ভারতবর্ষের কাগজের অনুরুপ। (১১)

হামেদ গার্নাতি হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দীর মানুষ। তার বর্ননা থেকে বুঝা যায় ততদিনে ভারতবর্ষে কাগজ প্রস্তুত শুরু হয়ে যায়। সম্ভবত লাহোর কিংবা দিল্লীতেই এই কাজ শুরু হবে কারন তখন এই দুই শহরই ছিল রাজধানী।

কাশ্মীর: শাহী খান কাশ্মীরের শ্রেষ্ঠ সুলতানদের একজন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। জীবনের শুরুর দিকে তিনি সমরকন্দে অবস্থান করে লেখাপড়া করেন। কাশ্মীর ফিরে আসার সময় তার সাথে অনেক কারিগরকে নিয়ে আসেন। তারীখে কাশ্মীরে গ্রন্থকার লিখেছেন, তিনি কিছুদিন সমরকন্দে অবস্থান করে বিভিন্ন শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করেন। ফিরে আসার সময় সাথে করে কাগজ, কার্পেট, জীন নির্মানে দক্ষ একদল শ্রমিক নিয়ে আসেন।

৮২৬ হিজরীতে শাহী খান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান যাইনুল আবেদিন নাম ধারণ করেন। তারীখে কাশ্মীরের গ্রন্থকার লিখেছেন, সুলতান তার সাথে নিয়ে আসা এইসব শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের জন্য জায়গির দান করেন (১২)।

সম্ভবত এ সময় কাশ্মীরে কাগজের কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটিই ছিল ভারতবর্ষে স্থাপিত প্রথম কাগজ কারখানা। ইতিহাসের পাতায় এর আগের কোনো কারখানার বিবরণ পাওয়া যায় না।

দ্রুতই এই শিল্পে কাশ্মীর প্রসিদ্ধি অর্জন করে। অন্যান্য অঞ্চলে কাশ্মীরি কাগজের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বাদশাহর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে এই কাগজ হাদিয়া পাঠানো হতো। সুলতান যাইনুল আবেদিন তার শাসনকালে গুজরাটের সুলতান মাহমুদ বিগ্রাহ ও খোরাসানের সুলতান আবু সাইদের কাছে কাশ্মীরি কাগজ উপহার পাঠান। খোরাসানে অনেক আগ থেকেই কাগজ প্রস্তুত করা হতো। তবু সুলতান কর্তৃক কাগজ উপহার দেয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায় সেসময় কাশ্মীরি কাগজের মান খোরাসানী কাগজের চেয়ে ভালো ছিল। ঐতিহাসিক আবুল কাসেম ফেরেশতা এই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এভাবে, খোরসানের শাসক আবু সাইদ সুলতানের কাছে আরবী ঘোড়া ও উন্নত প্রজাতির উট উপহার পাঠান। সুলতান এই উপহারে খুব খুশি হন। তিনি মেশক, জাফরান, আতর ও কাগজ ইত্যাদী মূল্যবান জিনিস উপহার পাঠান (১৩)।

গুজরাট: হিজরী নবম শতাব্দীর শুরুতে গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদের গোড়াপত্তন হয়। মাত্র পঞ্চাশ বছরে এই শহর এতটাই উন্নতি করে যে পুরো ভারতবর্ষে তখন এর সমকক্ষ দ্বিতীয় কোনো শহর ছিল না। সুলতান মাহমুদ বিগ্রাহ এই শহরের উন্নতির দিকে বিশেষ খেয়াল রেখেছিলেন। তিনি তার পাশে বিভিন্ন শাস্ত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের ডেকে নেন। তখন গুজরাটে বেশকিছু কাগজের কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে নানা রংগের কাগজ তৈরী করা হতো। লোকেরা রোজনামচা ও ব্যবসায়িক হিসাব লেখার জন্য রংগিন কাগজ ব্যবহার করতো। যারা কাগজ প্রস্তুত করতো তাদের কাগজি বলা হতো। এভাবে কয়েকটি বংশের নামই কাগজি নামে প্রসিদ্ধ হয়। এখনো এই বংশের লোকদের দেখা মেলে। আহমেদাবাদে এখনো কাগজি মহল্লা নামে একটি মহল্লা আছে, যেখানে কাগজিরা বসবাস করতো। আহমেদাবাদের পীর মুহাম্মদ শাহ লাইব্রেরীতে বেশকিছু পুরনো বই পাওয়া যায় যা আহমেদাবাদে তৈরী কাগজে লেখা। মিরআতে আহমদিতে আহমেদাবাদের কাগজের বৈশিষ্ট্য বিবৃত হয়েছে এভাবে, বিভিন্ন শহরে কাগজ প্রস্তুত হলেও আহমেদাবাদের কাগজের শুভ্রতা ও উজ্জ্বলতা একে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য (১৪)।

তবে এই কাগজের একটি দুর্বলতা ছিল। মিরআতে আহমদির লেখক লিখেছেন, আহমেদাবাদ যেহেতু মরু অঞ্চল তাই প্রায়ই কাগজ তৈরীর সময় বালু উড়ে মিশ্রণে পড়তো। শুকানোর পর এই বালুকনাগুলা ছোট ছোট লাল ফুটকির মতো দেখা যেত। এই কাগজের এটিই একটি দুর্বলতা (১৫)।

তবে এই দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও এই কাগজ আরব ও রোমে রফতানি করা হতো। মিরআতে আহমদির ভাষ্যমতে, প্রতিবছর হাজার রুপির এই কাগজ আরব ও রোমে পাঠিয়ে ব্যবসায়িরা অনেক লাভ করতো (১৬)।

দৌলতাবাদ: মুঘল আমলে ওখানে প্রস্তুতকৃত কাগজের বেশ সুনাম ছিল। এখানকার কাগজ পুরো দক্ষিণ ভারতে সরবরাহ করা হতো (১৭)

বিহার: বিহারের রাজধানী আজিমাবাদে (পাটনা) অনেকগুলো কাগজের কারখানা ছিল। সজন রায় বিহারের আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, পাটনায় খুব উন্নতমানের কাগজ প্রস্তুত হতো (১৮)।

আমার ব্যক্তিগত মত হলো, পাটনায় কাগজ তৈরী হতো না। এর কিছু দূরে যে এলাকা আছে, যাকে আজও কাগজি মহল্লা বলা হয়, সেখানেই কাগজ প্রস্তুত হতো। সে এলাকার বাসিন্দাদের এখনো কাগজি বলা হয়। যেহেতু পাটনা থেকে এই কাগজের বিপণন ও সরবরাহ হতো তাই হয়তো এই কাগজকে পাটনার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়।

গয়া: এখানেও বেশকিছু কাগজের কারখানা ছিল। গোলাম হোসেন খান তবতবায়ি এসব কারখানার কথা লিখেছেন (১৯)।

বাংলা: মুর্শিদাবাদ ও হুগলি অঞ্চলে প্রচুর কাগজ তৈরী করা হতো। এসব এলাকায় অনেককে কাগজি বলে ডাকা হতো।

জৌনপুর: আউধের যফরাবাদ গ্রামে অনেক কাগজি বসবাস করতেন। এখানকার বাশের তৈরী কাগজের খুব সুনাম ছিল। এখানেও কাগজি মহল্লা নামে একটি এলাকা আছে (২০)

পাঞ্জাব: পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে কয়েকটি কাগজের কারখানা ছিল। এখানকার কাগজ হতো ধবধবে সাদা ও শক্ত। পুরো পাঞ্জাবে এই কাগজ ব্যবহার করা হতো। সজন রায় লিখেছেন, এখানকার কাগজ খুবই ভালো। বিশেষ করে মান সিংগি, নিম হারিরি ও জাহাংগিরি কাগজের সুনাম সর্বত্র। এসব কাগজ খুবই সাদা ও শক্ত হতো (২১)।

এখানে নিম হারিরি কাপড় সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। রেশম কাপড়ের সাথে তুলা মিলিয়ে এই কাগজ তৈরী করা হতো। এই কাগজগুলো নরম ও শক্ত হতো।

এইসব কাগজের নমুনা এখন খুজে পাওয়া বেশ দুষ্কর। সৌভাগ্যক্রমে নবাব সদরে ইয়ার জং হাবিবুর রহমান খান শেরওয়ানির ব্যক্তিগত কুতুবখানায় (কুতুবখানা হাবিবগঞ্জে) এসব কাগজের অনেক নমুনা সংরক্ষন করা আছে। নবাব সাহেব অত্যন্ত যত্নের সাথে প্রাচীন এসব বইপত্র সংগ্রহ করে সংরক্ষন করেছেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে এই কুতুবখানা ঘুরে বিভিন্ন প্রকারের কাগজ দেখার। আহমেদাবাদী কাগজগুলো সাধারণত একটু মোটা। সোনালী রংগের বেশকিছু কাগজ দেখেছি। এই কাগজগুলো খুবই শুভ্র। এই কাগজের বৈশিষ্ট্যই এটি। হাবিবগঞ্জের কুতুবখানায় কাশ্মীরি কাগজে লিখিত কিছু বই দেখেছি। এই কাগজগুলোও খুব মজবুত। শিয়ালকোটে তৈরী হতো জাহাংগিরী কাগজ, সম্রাট জাহাংগিরের নামে যার নামকরন। এই কাগজগুলো শুভ্র, নরম। কুতুবশাহী শাসনামলে হায়দারাবাদে যে কাগজ প্রস্তুত হতো তাও কয়েক রংগের হতো। ইতিহাসের কোনো বইতে ফয়েজাবাদের কাগজের উল্লেখ না পেলেও কুতুবখানা হাবিবগঞ্জে এই কাগজের একটি নমুনা আছে। কানপুরি কাগজ ছিল সাধারন মানের। এটি হতো খাকি রংগের। দৌলতাবাদে কয়েক প্রকারের কাগজ তৈরী হতো। ৯৩৯ হিজরীতে বাহাদুর শাহ যখন দৌলতাবাদ দখল করেন তখন থেকে তার নামে এক প্রকার কাগজ তৈরী করা হতে থাকে। এই কাগজের নাম ছিল বাহাদুরখানি। এছাড়া সাহেবখানি ও মুরাদশাহী নামে দুই প্রকার কাগজ তৈরী হতো সেখানে। বালাপুরি নামে এক প্রকার কাগজ তৈরী হতো যা ছিল হালকা সাদা। কাসেম বেগি নামক এক প্রকার কাগজ আছে। এটির নামকরন করা হয় এর নির্মাতার নামানুসারে। রুবকারী নামক কাগজে লেখা কিছু ফরমান দেখেছি। তবে এই কাগজ কোথায় প্রস্তুত হত তা জানা যায়নি। শরবতি নামে আরেকপ্রাকার কাগজ দেখেছি যা অন্যদের তুলনায় সাদামাটা।

মূল: আবু জাফর নদভী

ভাষান্তর: ইমরান রাইহান

 

টীকা

১। আল ফিহরিস্ত, ৩২ পৃষ্ঠা, মিসর।

২। কিতাবুল হিন্দ, ৮১ পৃষ্ঠা, লন্ডন।

৩। খুলাসাতুত তাওয়ারিখ, দারুল মুসান্নেফিন , আযমগড়।

৪। এই সফর নিয়ে লেখক একটি বই লিখেছেন, সফরনামায়ে বার্মা। অত্যন্ত তথ্যবহুল বই। –অনুবাদক।

৫। আল ফিহরিস্ত, ৩২ পৃষ্ঠা, মিসর।

৬। কিতাবুল হিন্দ, ৮১ পৃষ্ঠা, লন্ডন।

৭। এনসাইক্লোপেডিয়া, ২০শ খন্ড, ২৫ পৃষ্ঠা।

৮। সুবহুল আ’শা, ২য় খন্ড, ৪০৫ পৃষ্ঠা।

৯। ফুতুহুল বুলদান, ১৪২ পৃষ্ঠা, মিসর।

১০। সুবহুল আ’শা, ২য় খন্ড, ৪৭৫ পৃষ্ঠা।

১১। তুহফাতুল আলবাব, ২০২ পৃষ্ঠা।

১২। ওয়াকেয়াতে কাশ্মীর, কুতুবখানা হাবিবগঞ্জ, আলীগড়।

১৩। তারিখে ফেরেশতা, ২য় খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা, নওল কিশোর প্রেস।

১৪। মিরআতে আহমদি, ১৮ পৃষ্ঠা, বোম্বাই।

১৫। প্রাগুক্ত।

১৬। প্রাগুক্ত।

১৭। মামলাকাতে বিজাপুর, ৩য় খন্ড, ২৯১ পৃষ্ঠা।

১৮। খুলাসাতুত তাওয়ারিখ, বিহার জেলার আলোচনা, দারুল মুসান্নেফিন। ১৯। সিয়ারুল মুতাআক্ষেরিন, ১ম খন্ড, ১৯ পৃষ্ঠা, নওল কিশোর প্রেস।

২০। আলীগড় ইউনিভার্সিটির সাবেক নাযেমে দ্বীনিয়াত মাওলানা আবু বকর শিস জৌনপুরী আমাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। –লেখক।

২১। খুলাসাতুত তাওয়ারিখ, ভূমিকা, দারুল মুসান্নেফিন।

 

Feature Photo Source: Pixabay.com

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *