কুবা মসজিদঃ প্রফেট মুহাম্মদ (সা:) এর তৈরী প্রথম মসজিদ

হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানানো প্রথম মসজিদ কোনটি?

সেটি হলো কুবা মসজিদ, যা মদীনা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

Photo Source: Author

মক্কা থেকে মদীনা হিজরত করে আসার পথে মদীনার নিকটবর্তী কূবায় রাসূল(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পৌঁছান ২৩ শে সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে, অর্থাৎ হিজরী প্রথম বছরের রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ।

তখন  রাসূল(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমনের প্রতীক্ষায় মদীনাবাসীরা অধীর আগ্রহে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকতো হাররার নামক স্থানে। দুপুরের রোদ অতিশয় কষ্টকর হয়ে দাঁড়ালে তারা বাড়ি ফিরে যেতো। একদিন এক ইহুদী এক উঁচু স্থান থেকে শুভ্র সাদা কাপড় পরিহিত  প্রফেট মুহাম্মদ (সাল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) কে দেখে মদীনাবাসিদের ডাক দেয়। মদীনাবাসীগণ ছুটে আসেন তাকে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখার জন্য। নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু আমর ইবনে আউফদের বসবাসের এলাকায় গিয়ে নামেন এবং সেখানে কুলসুম ইবনে হিদামের মেহমানদারি গ্রহণ করেন। সে এলাকাটির নাম ছিলো কূবা। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনা গমনের আগে এক মতানূসারে ৪ দিন, মতান্তরে ১০ বা ১৪ দিন আবার সহীহ আল বুখারির এক বর্ণনা অনুযায়ী ২৪ রাত কূবায় অবস্থান করেছিলেন।  হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) তার কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে হিজরত করে পৌঁছান।   [১]

সেখানে অবস্থানকালে রাসূল(সাল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

Photo Source: Instagram

বহুবার পূনর্নির্মাণের পর বর্তমানে মসজিদটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন, চারটি বৃহত্তর মিনার মসজিদটির চারপাশে উঁচু দাঁড়িয়ে আছে।

৫টি ছোট  গম্বুজ এবং একটি বড় গম্বুজ সম্বলিত এ মসজিদটি ১৯৮৬ সালে পুনর্নির্মাণ করার সময় এতে সাদা ব্যাসাল্ট (Basalt) পাথরের কাজ করা হয় এতে যা মদীনার শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশের এক প্রতিচ্ছবি। মসজিদ প্রাঙ্গন সাদা, কালো আর লাল মার্বেল পাথরের তৈরী। ভেতরে বেছানো কার্পেটের ওপর মুসল্লীগণ সালাত আদায় করেন। আশেপাশে খেজুর গাছ ও বনায়ন থাকায় সবুজে ছেয়ে আছে মসজিদ সংলগ্ন এলাকাটি। নারীদের জন্য আলাদা সালাত আদায়ের স্থানের ব্যবস্থাও আছে।

কুবা মসজিদ
Photo Source: Flickr.com

এ মসজিদটির বিশেষত্ব কুরআন ও হাদীস গ্রন্থেও উঠে এসেছে।

আল্লাহ বলেছেন, “নিঃসন্দেহ সেই মসজিদ যা প্রথম দিন থেকেই ধর্মনিষ্ঠার উপরে স্থাপিত তার বেশি দাবি রয়েছে যে তুমি সেখানে দাঁড়াবে। তাতে এমন লোক রয়েছে যারা ভালো পায় যে তারা পবিত্র হবে। আর আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের যারা পবিত্র কুবা মসজিদে আসতেন, কখনো পদব্রজে, কখনো সওয়ারীতে।”

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি শনিবার কুবা মসজিদে আসতেন, কখনো পদব্রজে, কখনো সওয়ারীতে।”

কুবা মসজিদের বাহিরের দেয়ালের সাইনবোর্ড।
Photo Source: Author

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরোহণ করে কিংবা পায়ে হেঁটে কুবা মসজিদে আসতেন। ইব্‌নু নুমায়র (রহঃ) নাফি‘ (রহঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।”

তাছাড়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, তারপর মসজিদে কুবায় এসে কোনো নামাজ আদায় করল, সে ওমরাহর সওয়াব হাসিল করল।”

মদিনায় যাবার সুযোগ হলে রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্মৃতিবিজড়িত মদীনা নগরীর এক অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান এ মসজিদ এ গিয়ে দু’রাকাত সালাত পড়ে আসতে পারেন।

তথ্যসূত্রঃ

[১]আর রাহীকুল মাখতুম (অনুবাদ: খাদিজা আখতার রেজায়ী; পরিবেশনা: আল কোরআন একাডেমী লন্ডন) পৃ. ১৮১-১৮২

[২]সুরা আত-তাওবা, আয়াত: ১০৯

[৩]http://ihadis.com/books/bukhari/hadis/1193

[৪]http://ihadis.com/books/bukhari/hadis/1194

[৫]সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৪১২

 

 

 

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *