শূন্য, একটি প্যারাডক্স এবং ঈশ্বরের থাকা, না থাকা

শূন্য! একটা অদ্ভুত সংখ্যা। যেটা প্রকাশ করে শূন্যতাকে। এমন একটি সংখ্যা যা ছাড়া আমাদের সংখ্যাজগৎ অসম্পূর্ন।

শূন্য কি? শূন্য কি শুধুই শূন্যতার প্রতীক?

আচ্ছা, আপনি কি ঈশ্বরের বিশ্বাস করেন? যুগের পর যুগ ঈশ্বরকে প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষ ‘এক’ সংখ্যাটি ব্যবহার করে এসেছে। এক…একক… অন্যতম! এই সংখ্যাটিই নাকি ঈশ্বরের প্রতীক। ঈশ্বর এক।

কিন্তু সত্যিই কি তাই? মধ্যযুগে একজন আরব গণিতবিদ এই ধারনার প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ঈশ্বরের প্রতীক হলো ‘০’ । শূন্যই নাকি প্রকাশ করে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে!

কিভাবে?

  • ১.শূন্যকে দেখা যায় না। কিন্তু এটি সর্বত্র বিরাজমান! এটি ছাড়া সংখ্যাজগৎ অচল।
  • ২. শূন্যকে যা দিয়েই গুণ দিন না কেন। ফলাফল আসবে একটা শূন্যই! মানে ঈশ্বর একজনই!
  • ৩. শূন্যকে যা দিয়েই ভাগ করুন না কেন, ফলাফল শূন্যই আসবে। অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন অংশীদার নেই!
  • ৪. শূন্য দিয়ে কিছুকে ভাগ দিলে কি হয়? ইনফিনিটি! মানে ঈশ্বরের ক্ষমতা অসীম!

সেই আরব গণিতবিদের নাম? সেটা জানা যায়নি। তবে এই প্রমাণটিই একটা দীর্ঘসময় ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হতো।

                             অসীম মহাবিশ্ব।                                                                    Photo Source: Davidreneke.com

আচ্ছা, ঈশ্বরকে নিয়ে একটা প্যারাডক্স আছে। জানেন কি? এই প্যারাডক্সটি নাস্তিকদের খুবই প্রিয় একটি প্যারাডক্স। এটিকে বলে ‘দ্য অমনিপটেন্ট প্যারাডক্স’।

এই প্যারাডক্সটি হলো এমন,

“কোন সর্বশক্তিমান সত্তা কি এমন একটি পাথর তৈরী করতে পারবেন, যেটা তিনি নিজেই তুলতে পারবেন না?”

এই প্যারাডক্সের বাঁধা দুইখানে।

১.যদি কোন সর্বশক্তিমান সত্তা এমন একটি পাথর বানাতে না পারেন যেটা তিনি তুলতে পারবেন না, তাহলে তিনি সর্বশক্তিমান হলেন কিভাবে?

২.যদি তিনি এমন একটি পাথর তৈরী করেই ফেলেন যেটা তিনি তুলতে পারবেন না, তবে তিনি তো সেই পাথরটি আর তুলতে পারবেন না, তাই না? তাহলে তিনি কিভাবে সর্বশক্তিমান হলেন?

আজব না? মাথা খাটান, নাকি?

আচ্ছা, জেনে আশ্চর্য হবেন যে ‘আলবার্ট রবিনসন’ নামে একজন মার্কিন নাস্তিক গণিতবিদ এই প্যারাডক্সের সমাধান করেছেন।

তার মতে,

যদি কোন সত্তা সর্বশক্তিমান হন, তবে তাঁর অবশ্যই ক্ষমতা আছে নিজের শক্তিকে বাড়ানোর এবং কমানোর।

এইক্ষেত্রে,

১.তিনি নিজের সর্বশক্তি দিয়ে একটি পাথর বানালেন যা তিনি তুলতে পারবেন না।

২.এরপর তিনি নিজের শক্তিকে বৃদ্ধি করলেন।

৩.এরপর তিনি পাথরটি উত্তোলন করলেই।

এভাবেই অমনিপটেন্ট প্যারাডক্সের সমাধান হয় এবং সেই গণিতবিদ প্রমাণ করেন যে সর্বশক্তিমান সত্তার অস্তিত্ব অসম্ভব কিছু না।

 

Feature Photo Source: Pixabay.com

Leave a comment

লুৎফুল কায়সার

মাঝে মধ্যে লেখি আরকি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *