অদ্ভুতুড়ে বিজ্ঞান

মার্ক টোয়েন বলেছিলেন,

Truth is Stranger than Fiction

অর্থাৎ “সত্য কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত”৷ চিকিৎসা বিজ্ঞানের তেমনই অদ্ভুত আর রহস্যময় কিছু ঘটনা নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আয়োজন, যা কিছুটা হলেও চিন্তার খোরাক যোগাবে আপনার নিউরনে৷

স্বর্গীয় রোগমুক্তি-

অ্যানাবেল বীম; Photo Source: Thriving.childrenshospital.org

টেক্সাস শহরের চার বছর বয়সী ছোট্ট ফুটফুটে মেয়ে অ্যানাবেল বীম৷ যে বয়সে একটি শিশুর নতুন নতুন জিনিসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবার কথা, সে বয়সে বাচ্চাটি জীবনের প্রতি সমস্ত আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিল৷ তার ছিল দুটি অনারোগ্য জটিল ব্যাধি, যার একটির ফলে পাকস্থলির নিচের অংশ এবং অপরটিতে অন্ত্রনালীর মাংসপেশি সঠিকভাবে সংকুচিত হতে পারে না। ফলে অর্ধপাচিত খাদ্য সামনের দিকে যেতে পারে না। যেন মনে হয় নালীর ভেতরে কোনো কৃত্রিম বাধা তৈরী হয়েছে৷ ফলে খাদ্যের পুষ্টি উপাদানও শোষিত হয় না৷ এতে মারাত্মক পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়! সাথে সার্বক্ষণিক প্রচণ্ড ব্যাথাও থাকে! রোগটির কোনো চিকিৎসা না থাকায় রোগীকে নাকে কৃত্রিম নলের মাধ্যমে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা হয়৷

দিনটি ছিল ১১ই ডিসেম্বর৷ অ্যানাবেল তার দুই বোনের সাথে বনের ভেতর খেলাধুলা করছিল। হঠাৎ সে প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার একটি ফাঁপা তুলাগাছের কোটরে পড়ে যায় এবং জ্ঞান হারায়৷ জ্ঞান ফেরার পর থেকে অলৌকিকভাবেই সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়! বোস্টনের বিখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ স্যামুয়েল নারকো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷ বাচ্চাটির ভাষ্যমতে, জ্ঞান হারানোর পর তার স্বপ্নে সান্তা ক্লসের মত কেউ এসে বলেছে তার আর ব্যাথা-কষ্ট থাকবে না! ব্যাপারটি নিয়ে পরবর্তীতে বেশ তর্ক-বিতর্ক হলেও তা আজও অমিমাংসিতই রয়ে গেছে।

যে জীবন ব্যাথাহীন-

গ্যাবি জিংরাস; Photo Source: Nydailynews.com

এবারের ঘটনাটি সম্পূর্ণ বিপরীত৷ ব্যাথার অভিজ্ঞতা বেশ কষ্টকর হলেও তা আমাদের ধারণা দেয় যে কোনো ভারী, ধারাল, ক্ষতিকর কিংবা গরম বস্তু সাবধানে ধরতে হয়৷ কিন্তু যদি ব্যাথাই না থাকে তবে? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন- তখন মানুষ  হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক৷ মিনেসোটার মাত্র চার বছর বয়সী গ্যাবী জিংরাসের কথা বলছি, যে ঘটিয়েছিল ভয়ংকর সব আত্মঘাতী কাণ্ড! যেমন বাচ্চাটি তার একটি ছাড়া বাকী সমস্ত দাঁত উপড়ে ফেলেছিল, প্রায় অন্ধ করে দিয়েছিল নিজের বাঁ চোখটি। সে জিহ্বা চুইংগাম এর মত চিবুতে থাকত, হাতের আঙ্গুল কামড়ে রক্তাক্ত করত। এর ফলে তার চোয়াল ভেঙ্গে পড়েছিল। এমনকি সে পোষা কুকুরটির সাথেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধিয়ে ছাড়ত! আসলে সে একটি জটিল রোগে ভুগছে যার নাম Hereditary Sensory and Autonomic Neuropathy (HSAN), যার ফলে স্নায়ুর মাধ্যমে কোন সংবেদন মস্তিষ্ক অব্দি পরিবাহিত হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়৷ তাই তার এ ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে সবসময় চশমা বা সাঁতারের গগলস পরিয়ে রাখা হয়৷

পানিতেও অ্যালার্জি?

Photo source: Peanutallergy.com

আমাদের শরীরের ৬০ শতাংশই তো পানি৷ তো পানি দ্বারা অ্যালার্জিও কি সম্ভব? উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ, সম্ভব। ১৯৬৪ সালে আবিষ্কৃত Aquagenic Urticaria রোগটিতে বিশুদ্ধ ফুটানো পানি এমনকি স্যালাইন ব্যবহারেও হতে পারে অ্যালার্জি৷ তাপমাত্রা, পানি বিশোধক ক্লোরিন, রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার, কোন কিছুই এই রোগকে প্রভাবিত করে না৷   তবে পানি পান করলে কোনো সমস্যা হয় না। শুধু দৈনন্দিন কাজে পানি ব্যবহারের সময় সমস্যাগুলো দেখা যায়৷ সাধারণত অ্যালার্জি হবার জন্য মাস্ট কোষ বা বেসোফিল শ্বেতকণিকা হতে হিস্টামিন নির্গত হতে হয়৷ কিন্তু উক্ত রোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত রোগপ্রক্রিয়াটি কেমন তা এখন অব্দি ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে! আপাতত এর উত্তর খুঁজতে আমরা ভবিষ্যতের অপেক্ষাতেই রইলাম৷

সেজন্যই আমরা বলি যে রহস্য, বিস্ময় সৃষ্টি করে, আর বিস্ময়ই মানুষকে অনুধাবন করার আগ্রহ তৈরি করে দেয়৷ তাই নিজকে জানুন, বিজ্ঞানকে জানুন৷

শুভকামনা৷

 

Feature Photo Source: Nytimes.com

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *