গিরিশ চন্দ্র সেনই কি আল কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক?

আল কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে ছিলেন এ নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। কারো মতে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন ও কারো মতে আমির উদ্দিন বসুনিয়া ও কারো মতে মওলানা নঈমুদ্দিন। চলুন দেখি, ইতিহাস কি বলে।
অনেক আগেই বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ করা হলেও বিভিন্ন কারনে বাংলা ভাষায় তা শুরু হয়েছিল সপ্তদশ শতকে। এ ভুখন্ডের অধিকাংশ আলেমই কুরআনের শিক্ষা গ্রহন করেছিলেন ভারতের উর্দুপ্রধান এলাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ, সাহারানপুর, নদওয়া, জামেয়াতুল এসলাহ,  জামেয়াতুল ফালাহ ইত্যাদি থেকে। যার ফলে উর্দু কিংবা ফার্সী ভাষাতে গবেষণা বাড়লেও বাংলায় তা বাড়েনি। পলাশী ট্রাজেডির ফলে কুরআন গবেষণা আরো স্তিমিত হয়ে পরে। অবশেষে সপ্তদশ শতকে কয়েকজন বাঙালীর হাতে কুরাআনের বাংলা অনুবাদের হাতেখড়ি হয়।

Photo Source: Depositphotos.com

আমাদের সমাজে প্রচলিত যে, ব্রাহ্মণ ধর্মের নববিধান মন্ডলির নিষ্ঠাবান ধর্মপ্রচারক গিরিশচন্দ্র সেন সর্ব প্রথম কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেন। তিনি বর্তমান
নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে এক বিখ্যাত দেওয়ান বৈদ্যবংশে জন্মগ্রহণ করেন। অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি তিনি আরবি ও ফার্সী উভয় ভাষায় যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। অনুবাদক হিসেবে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি কুরআনের অনুবাদের কাজ শুরু করেন এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১২ টি খন্ডে এই অনুবাদকর্ম সমাপ্ত করেন। ১৮৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর কুরআনের প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়। প্রথমদিকে বিভিন্ন কারনে তার নাম গোপন রাখা হয়। অনুবাদ প্রকাশ হলে তৎকালীন মুসলিম সমাজ অজ্ঞাতনামা অনুবাদকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। আলেমসমাজ ব্রাহ্মণদের উদ্দেশ্যে পত্র লেখেন,

 “আমরা বিশ্বাস ও জাতিতে মুসলমান। আপনি নিঃস্বার্থভাবে জনহিত সাধনের জন্য যে এতোদৃশ চেষ্টা ও কষ্ট সহকারে আমাদিগের পবিত্র              ধর্মগ্রন্থ কুরআনের গভীর অর্থ প্রচারে সাধারণের উপকার সাধনে নিযুক্ত হইয়াছেন, এজন্য আমাদের আত্যুত্তম ও আন্তরিক বহু কৃতজ্ঞতা            আপনার প্রতি দেয়।”

এরপর তিনি স্বনামে পুরো খন্ডের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
তবে তার ৬ বছর আগে ১৮৭৯ সালে আরেকজন অমুসলিম রাজেন্দ্রলাল মিত্র কুর আনের প্রথম পারার অনুবাদ করেছিলেন । কলকাতার আয়ুর্বেদ প্রেস নামক একটি ছাপাখানা থেকে এক ফর্মার(১৬ পেজ) এই অনুবাদ ৫০০ কপি ছাপানো হয়।
তবে তারও আগে ১৮০৮ সালে বাংলার রংপুর নিবাসী মওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া প্রথম কুরআনের বঙ্গানুবাদের কাজে হাত দিয়েছিলেন। ১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে অর্থাৎ বাংলা ১২১৫ অব্দে তিনি প্রথম আমপারার তরজমা প্রকাশ করেন। যার আকার ছিল ডিমাই ১২ পেইজ ১৬৮ পৃষ্ঠা। কিন্তু তিনি সেই অনুবাদ কর্ম শেষ করে যেতে পারেননি। এরপর ১০ পারা পর্যন্ত অনুবাদ করেন মৌলভি নঈমুদ্দিন। কিন্ত তার অনুবাদকৃত ১০ পারার মুদ্রণ শেষ হওয়ার আগেই তিনি লোকান্তরিত হন।
এবং সর্বশেষ বাঙালী মুসলমান দের মধ্যে সর্বপ্রথম সমগ্র কুরআনের বঙ্গানুবাদ করেন মাওলানা মোহাম্মদ আব্বাস আলী (১৮৫৯-১৯৩২)।বাংলা ১৩১৬ সনে তিনি আমপারা পর্যন্ত ৩০ পারার অনুবাদ করেন। তার পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৯৭৬।
প্রথম দিকে কুরআনের অনুবাদে কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও পরবর্তীতে অনেক আলেম তা ত্রুটিমুক্ত করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূ্ত্রঃ

১/ http://somewhereinblog.net/mobile/blog/asksumon0000/29549691

২/ মহাগ্রন্থ আল কুরআন ( আল কুরআন একাডেমী লন্ডন এর )

 

Feature Photo Source: Quotesofislam.com

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *