বিশ্ব মিডিয়ার চোখে বাংলাদেশের টিনেজ আন্দোলন

ওয়ায়েল গোনিম যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে ২০১১ সালে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকার শীর্ষে স্থান পান। মিসরের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের নায়ক ওয়ায়েল গোনিম, (অবশ্য মিসরে যদিও এখন আর গণতন্ত্র নেই)। ৩০ বছর বয়সে গুগলের এ তরুণ কর্মকর্তা ফেসবুকের মাধ্যমে মিসরে গণ-আন্দোলন সংগঠিত ও অনুপ্রেরণা দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত ও অনুপ্রাণিত হওয়ার পেছনে অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের, বিশেষত ফেসবুকের। বাংলাদেশের বর্তমান আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়। এ আন্দোলন হচ্ছে সংস্কারমূলক আন্দোলন। ছাত্রদের দাবী বাস্তবায়নের আন্দোলন।দাবী আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত জনগণের দিক থেকে ক্রমাগত চাপ দিয়েই যেতে হয়, নিজেদের কণ্ঠস্বর বিরতিহীনভাবে শাসকগোষ্ঠীর কানে পৌঁছাতে হয়। তবেই আসে পরিবর্তন। বাংলাদেশের চলমান এ ছাত্র আন্দোলন সমগ্র বিশ্বের নজরে এসেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক জনমত। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদপত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে।

 

Amnesty International-

ছাত্রদের উপর চলমান সহিংসতা ও শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সাউথ এশিয়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি ডিরেক্টর বলেন,

বাংলাদেশের সরকার শহিদুল আলমকে বিনা শর্তে তাৎক্ষনিকভাবে মুক্তি দেওয়া হোক এবং ছাত্রদের উপর সহিংসতা বন্ধ করা হোক। ছাত্রদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে।

গত ৬ তারিখে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর শিরোনাম ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে; Photo Source: Amnesty.org

 

Hindustan Times-

আন্দোলনকারীদের উপর চলমান হামলা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়, 

“ঢাকায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে এখন পর্যন্ত ১১৫ জন ছাত্র আহত হয়েছে। বাংলাদেশের পরিবহন খাত ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, অনিয়ন্ত্রিত ও বিপদজনক। সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ছাত্ররা তাদের আন্দোলন শুরু করে এবং তাদের দাবি বাস্তবায়নের পূর্ব পর্যন্ত ছাত্ররা আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।”

গত ৫ তারিখে হিন্দুস্তান টাইমস এর শিরোনাম ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে; Photo Source: hindustantimes.com/


Aljazeera-

জিগাতলায় হামলা নিয়ে রিপোর্ট করেছে আল-জাজিরা। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে,

“নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর জিগাতলায় হামলা ও ২৫ জনের বেশি আহত হয়। কিন্তু পুলিশ জিগাতলা সহিংসতার ব্যাপারে অস্বীকার করেছে।”

গত ৪ তারিখে আলজাজিরার শিরোনাম ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে; Photo Source: Aljazeera.com

 

The Washington Post-

দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে আন্দোলন নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়,

“ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন শুরু করে এবং ছাত্ররা গাড়ি থামিয়ে গাড়ির লাইসেন্স চেক করে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর প্রায় ১২০০০ লোক মারা যায়। সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানো এবং আইন ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনাই এ আন্দলনের উদ্দেশ্য।”

গত ৪ তারিখে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টের শিরোনাম ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে; Photo Source: Washingtonpost.com


The New York Times-

আমেরিকার জনপ্রিয় দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিপোর্টে জানানো হয় যে,

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে পুলিশ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়। ছাত্ররা ক্ষমতাশীল দলকে এ সহিংতার জন্য দায়ী করে।”

গত ৪ তারিখে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে; Photo Source: Nytimes.com


The Guardian-

বাংলাদেশের সড়ক দূর্ঘটনায় দুই কিশোর নিহত হওয়ার পর হাজার হাজার শিক্ষার্থী, যাদের অধিকাংশই কিশোর তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১৭ সালে প্রায় ৪২০০ জন লোক মারে যায়। যা ছিল ২০১৬ সালের চেয়ে ২৫% বেশি।

গত ৩ তারিখে গার্ডিয়ানের শিরোনাম ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে; Photo Source: Theguardian.com

 

Feature Photo Source:  Nytimes.com

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *