নাস্টিসিজমঃ এক রহস্যময় ধর্ম !

কখনো কি মনে হয়েছে যে আমাদের এই জগতটা শুধুই একটা মিথ্যা আর বিষন্ন প্রতিবিম্ব ?

১৯৪৫ সালে মিশরের ‘জাবাল আর তারিফ’ পাহাড়ের পাদদেশে দুজন কৃষক মাটি খুড়তে খুড়তে একটি মাটির তৈরী বিরাট কলসি খুঁজে পায়। আর সেখান থেকে ১২-১৩ টি প্যাপিরাসের পুথি উদ্ধার করা হয়। ধারনা করা হয় এই পুথিগুলো ৪ খ্রীষ্টাব্দ বা তার আগে লেখা। এগুলো পাঠোদ্ধার করে মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি নতুন ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

Source: Chakracenter.org

জন্ম নেয় একটি নতুন কাল্ট নাস্টিসিজম(Gnosticism)। নাস্টিসিজমের মতে একের অধিক মহাবিশ্ব রয়েছে। এসব মহা বিশ্বের আলাদা আলাদা সৃষ্টিকর্তা রয়েছে। এই সৃষ্টিকর্তাদের সৃষ্টিকর্তা আবার একজন। যাকে বলা হয় ‘সর্বোচ্চ ঈশ্বর’।

দুই রকমের মহাবিশ্ব রয়েছে, স্থায়ী মহাবিশ্ব(Perfect Universe) আর অস্থায়ী মহাবিশ্ব(Imperfect Universe)।

স্থায়ী মহাবিশ্বগুলো স্বতন্ত্র আর অস্থায়ীগুলো মূলত ‘ছায়া মহাবিশ্ব’ বা স্থায়ীগুলোর অনুকরনে বানানো নকল মহাবিশ্ব। স্থায়ী মহাবিশ্বগুলো চিরন্তন, এগুলো কখনোই ধ্বংস হবে না। এদের সৃষ্টিকর্তারাও ভালো প্রকৃতির। তবে অস্থায়ী মহাবিশ্বগুলো চিরন্তন নয়, যেকোন সময়ে এগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আর এই মহাবিশ্বগুলোর সৃষ্টিকর্তারাও খল প্রকৃতির।

আমাদের এই মহাবিশ্বটি অস্থায়ী। এটি একটি বিষন্ন প্রতিচ্ছায়া যার সৃষ্টির মূল উপাদান হল তিনটি: সময়,পদার্থ আর জীবন।

ডেমাইয়ার্জ নামের একজন দানব হলো এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও শাসন কর্তা। ধর্মগুলো ভুল করে এই ডেমাইয়ার্জকেই ঈশ্বর হিসাবে ধরে নিয়েছে।

Source: Diskoftheworld.com

এই মহাবিশ্বে আমরা যারা বাস করি আমরা কেউই নিজেদের আসল রুপ নই। ডেমাইয়ার্জ এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিই করেছে আত্নাকে আটকানোর জন্য। অন্য মহাবিশ্ব থেকে কোন আত্না ডেমাইয়ার্জের এই রাজত্বে আসলে তাকে আর ফিরে যেতে দেওয়া হয়না। আমাদের স্থায়ী রুপগুলো এইখানে এসে আটকা পরে গেছে।

এইরকম মহাবিশ্বে মানুষের জীবনের  উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো কোন মতে খল প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে নিজের আত্মাকে মুক্ত করে স্থায়ী মহাবিশ্বে ফিরে যাওয়া আর সর্ব্বোচ্চ ঈশ্বরের কৃপা লাভ করা।

 

পৃথিবীর খুব কমসংখ্যক মানুষ নাস্টিসিজমের অনুসারী। তবে বিশ্বাস করুন আর না করুন, এই ধর্মটা সম্পর্কে জানতে ক্ষতি কি ?

Leave a comment

লুৎফুল কায়সার

মাঝে মধ্যে লেখি আরকি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *