অজানা বেতার বিস্ফোরণ: মহাজাগতিক প্রাণীদের আগমন সংবাদ

লরিমার বার্স্ট বা Fast Radio Burst নামের এক মহাজাগতিক অজানা ঘটনা ধরা পড়েছে গত মাসে   কানাডার একটি স্পেস টেলিস্কোপ এ। ২০০৭ সাল থেকেই এই লরিমার বার্স্ট আমাদের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চোখে পড়লেও এবারের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছিল সর্বনিম্ন। কানাডার একজন শীর্ষ স্থানীয় জ্যোতির্বিদ Canadian Hydrogen Intensity Mapping Experiment (CHIME) এর প্রধান, তিনি এই বিস্ফোরণকে সর্বপ্রথম দেখেন গত জুলাই এর ২৫ তারিখে। এই রেডিও বিস্ফোরণ গুলো মুলত আসছে মিল্কিওয়ে বা আমাদের গ্যালাক্সি এর থেকে অনেক অনেক দুরের কোন উৎস থেকে, কিন্ত এগুলো আসলে কি বা কিসের ফলাফল, সেটা সম্পর্কে এখনও বিজ্ঞানীরা কিছুই জানেন না। এই FRB (Fast Radio Burst)– টি মাত্র ৫৮০ মেগাহার্টজ এর ছিল, যা এখন অব্দি পাওয়া সর্বনিম্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ। তবে পৃথিবীতে যদি এটি ৫৮০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে, তাঁর মানে মহাবিশ্বে এর যে উৎস ,সেটি প্রায় ৫০ কোটি সূর্যের সমান শক্তি বিকিরণ করতে পারে প্রতি সেকেন্ডে! যা এখনও আমাদের বিজ্ঞান এর সুনিশ্চিত  জ্ঞানের বাইরে যে এরকম কোন শক্তি এর অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা!

তবে বিজ্ঞানীদের  চিন্তা থেমে নেই। তারা বেশ কিছু থিওরি প্রদান করেছেন এই FRB সম্পর্কে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দুইটি নিউট্রন স্টার এর মাঝে সংঘর্ষ, Blitz তারকা বা মহাবিশ্বের শুরুর দিকের গামা রশ্মি উৎপন্নকারী তারকা ইত্যাদি।

এদের মধ্যে একটি এমন উৎস রয়েছে যেখান থেকে বিপুল পরিমানে এই বেতার এর সিগন্যাল ধরা পড়েছে। এখান থেকে প্রায় ৩০ টি এমন সিগন্যাল ধরা পড়ার পরে বিজ্ঞানীরা সর্ব প্রথম এই অংশে একটি ক্ষীণ বামন গ্যালাক্সির সন্ধান পান যেটি অত্যন্ত সক্রিয়। রেডিও বিকিরণের দিক থেকে এখন তারা এটাই ধারণা করছেন যে এগুলো ম্যাগনেটার নামের এক জাতীয় পালসার এর কাজ, সেখান থেকেই এই ধরণের প্রচন্ড বিস্ফোরণগুলোর সিগন্যাল ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে।

তবে এই রেডিও সিগন্যালগুলোর সাথে আমাদের জানা কোন শক্তির মিল না থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা একটা কথা চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর সেটি হচ্ছে এটাই যে এরা কি আসলেই অন্য কোন অতি উন্নত সভ্যতা থেকে আসছে?

আমরা যেমন এরেসিবোর মাধ্যমে তাদের কে সিগন্যাল পাঠাতে চেষ্টা করছি, তারাও কি আমাদের কে সিগন্যাল পাঠাতে চেষ্টা করছে?

আর দ্বিতীয়ত এই ব্যাপারে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এর প্রফেসর অ্যাভি লোয়েব বলেছেন যে কোন প্রাকৃতিক উৎস এর বেতার বিস্ফোরণ এত অল্প সময় স্থায়ী হবে না। আর সেটি এক মিলি সেকেন্ড এর ভিতরে ৫০০ মিলিয়ন সূর্য এর সমান ক্ষমতাও নিঃসৃত করতে পারবে না, তাঁর মতে এগুলো হচ্ছে এলিয়েনদের স্পেসক্রাফটের আলোকপালকে শক্তি প্রদান করার জন্য উৎপন্ন বেতার বিস্ফোরণ।

আর দ্বিতীয়ত তাঁর এই কথার পিছনে যুক্তিও রয়েছে। এর আগে এরকম এত অনিয়মিত বা র‍্যান্ডম কোন কসমিক ফেনোমেনা আমরা আজ পর্যন্ত পাই নি। তার ভাষ্যমতে,  

“We have posited that Fast Radio Bursts are beams set up by extragalactic civilisations to potentially power lightsails,”

Photo Source: Sciencealert.com

তবে এটা সতিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে অন্ততপক্ষে যে সভ্যতা একে তৈরি করেছে, সেটি হবে দ্বিতীয় স্তরের সভ্যতা। কেননা এত শক্তিমান একটি তরঙ্গ তৈরি করার মত শক্তিশালী ইঞ্জিন এর আকৃতি কমপক্ষে দুইটি পৃথিবী এর সমান হতে হবে, যেটা ডাইসন স্ফিয়ার ছাড়া সম্ভব না।

ডাইসন স্ফিয়ার; Photo Source: Sciencealert.com

তাহলে এখন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে এরা আসলে ঠিক কি? সুপারনোভা এর অবশেষ? পালসার এর বিস্ফোরণ? ব্ল্যাক হোল এর চিৎকার নাকি ডাইসন স্ফিয়ার এর প্রবল শক্তির বিকিরণ?

 

Feature Photo Source: Wikipedia.org 

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *